হাট বাজারে বিক্রি হচ্ছে অবৈধ কারেন্ট চায়না দুয়ারী জাল



তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
 দেশীয় প্রজাতির মাছের জন্য বিখ্যাত বাংলাদেশের মৎস্যভান্ডার চলনবিল অঞ্চলে বর্ষা মৌসুম শুরু হতে না হতেই বিভিন্ন  হাটে বাজারে অবৈধ কারেন্ট, চায়না দুয়ারী জালের মজুদ এবং বিক্রি ব্যাপক ভাবে শুরু হয়ে গেছে। 

পাশাপাশি এ সকল নিষিদ্ধ জাল দিয়ে বিল এলাকার বিভিন্ন জলাশয়ে অবাধে চলছে ডিমওয়ালা মা এবং পোনা মাছ নিধন। অথচ সরকারি নিয়মে ৯ সেন্টিমিটারের নিচে ছোট মাছ ধরা নিষেধ। 

জানা গেছে, বর্তমানে বিল অঞ্চলে ভারী ও মাঝারী বৃষ্টির পরিমান বেড়েছে। সেই সাথে উজান থেকে ঢল গড়া পানিতে বিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদী এবং খাল বিল পানিতে ভরতে শুরু করেছে। ফলে বৃষ্টির পানিতে সব ধরনের মাছের প্রজনন আরম্ভ হওয়ায় পোনা মাছেরও জন্ম নিচ্ছে। আর এটাকেই টার্গেট করে অসাধু জেলে, মাছ শিকারীরা কারেন্ট ও চায়না দুয়ারী জাল কেনার জন্য হাট বাজারে ভীড় করছেন। 

তাড়াশ উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালে সরকারের জারি করা মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইনের ৪ (১) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি কারেন্ট জালের উৎপাদন, বুনন, আমদানি, বাজারজাতকরণ, সংরক্ষণ, বহন ও ব্যবহার করতে পারবেন না। আইন ভঙ্গকারীকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা বা এক থেকে দুই বছরের কারাদÐের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া, মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৮৫ এর বিধি-১২ এ প্রদত্ত ক্ষমতা বলে সরকার মাছ ধরার ক্ষেত্রে ৪.৫ সেন্টিমিটার বা তার কম ব্যাস বা দৈর্ঘ্যরে ফাঁস বিশিষ্ট জাল বা অনুরূপ ফাঁস বিশিষ্ট অন্য যেকোনো জালের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ দিকে বর্ষা মৌসুমে ব্যবসা করতে বিল এলাকার জাল ব্যবসায়ীরা কারেন্ট, চায়না দুয়ারী জালের মজুদ গড়ে তুলেছে। বিশেষ করে উপজেলার নওগাঁর হাট, গুল্টার হাট, রানীরহাট এলাকার সাপ্তাহিক হাট এবং বাজারে প্রকাশ্যে ও গোপনে কারেন্ট, চায়না দুয়ারী জাল দেদার বিক্রি হচ্ছে। 

ধামাইচ এলাকার কলেজ প্রভাষক আবু হাসেম খোকন বলেন, বিভিন্ন হাট ও বাজারে অনেক জাল ব্যবসায়ী কারেন্ট, চায়না দুয়ারী জালের মজুদ গড়ে তুলেছেন। আর তারাই খুচরা জাল ব্যবসায়ী এবং পাইকারি দরে এ সকল জাল বিক্রি করছেন। 

সগুনা এলাকার আইয়ুব আলী বলেন, বর্তমানে বিলের যে সকল এলাকায় পানি আছে সেখানে মাছ শিকারে বিপুল সংখ্যক কারেন্ট, চায়না দুয়ারী জাল দিয়ে ডিমওয়ালা মা এবং পোনা মাছ নিধন চলছে।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মশগুল আজাদ জানান, চলনবিল একটি বৃহত এলাকা। তবে তাড়াশ এলাকায় কারেন্ট জাল বিক্রি বন্ধে প্রতিটি হাট ও বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।


Post a Comment (0)
Previous Post Next Post