তাল শাঁসের দাম চড়া

টানা দুর্বিষহ গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন প্রাণীকুল। আর গরম থেকে একটু ঠান্ডার পরশ পেতে অন্যান্য পানীয়র সাথে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে কদর বেড়েছে তাল শাঁসের। মানুষ শরীরে পুষ্টির চাহিদা মেটাতে তালের শাঁস কিনে খাচ্ছেন। দাম কিছুটা বেশি হলেও সে দিকে তাকাচ্ছেন না ক্লান্ত ও পরিশ্রমী মানুষগুলো। উপজেলার বেশির ভাগ শ্রমজীবী মানুষের কাছে তালের শাঁসের কদর বেশি।

সরেজমিনে মঙ্গলবার (৩০ মে) নিমগাছী-তাড়াশ আঞ্চলিক সড়কের বাস টার্মিনাল মোড়ে হরদমে বিক্রি করছেন তালের শাঁস।  
জানা গেছে, চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশের বিভিন্ন গ্রামে প্রচুর পরিমাণ তালগাছ আছে। আর এসব তালগাছের তাল দুটি মৌসুমে বিক্রি হয়। যেমন- জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাসে নরম তুলতুলে তাল শাঁস হিসেবে বিপুল পরিমান। পাশাপাশি ভাদ্র মাসে পাঁকা তাল ও সমান্তরালে বিক্রি হয়ে থাকে।  
তাই তাড়াশের তাল গাছের তালের কদরও রয়েছে এলাকায়। বিশেষ করে জ্যৈষ্ঠ মাসে শুরুতে তাল গাছের মালিকরা কিছু তাল গাছের তাল শাঁস হিসেবে বিক্রি করে থাকেন তাল ব্যবসায়ীদের কাছে। যার বেশির ভাগ ক্রেতা তাড়াশের পাশ্ববর্তী রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি, উল্লাপাড়া, নাটোরের গুরুদাসপুর, সিংড়া এলাকার। আর তাল ব্যবসায়ীরা তাড়াশ এলাকার তাল পাইকারি দরে কিনে নিয়ে নিজ এলাকায় গিয়ে সে তাল খুচরা মূল্যে বিক্রি করে থাকেন। কিন্তু এ বছর তালের দাম প্রকার ভেদে ২০ থেকে ২৫ ভাগ বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।  
সিরাজগঞ্জের বহুলী এলাকার তাল ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার সরকার জানান, তাঁরা বর্তমানে তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে তাল শাঁস হিসেবে বিক্রির জন্য তাল কিনছেন। তিনি আরো জানান, গত বছর একেকটি তালের বাঁধা গড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে কিনেছেন। কিন্তু এ বছর তাল গাছের মালিকরা তালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এজন্য এখন একেকটি তালের বাঁধা ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বাধ্য হয়ে কিনতে হচ্ছে।
এ দিকে গাছ থেকে ব্যবসায়ীরা বেশি তাল কিনে খুচরা দরে বিক্রি করতে গিয়ে তাঁরা তাল শাঁসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে জানান তাড়াশ সদরের তাল শাঁস ক্রেতা আশিকুর রহমান। তিনি জানান, গত বছর তিন চোখ (এক তালে থাকা তিনটি শাঁস কে বুঝায়) একেকটি তাল ৫ থেকে ৬ টাকায় কিনছেন। কিন্তু এ বছর তা ৮ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ্ আল মামুন বলেন, এ উপজেলায় প্রচুর পরিমাণ তাল গাছ রয়েছে। পাশাপাশি আমরা বজ্রপাত রোধে বিভিন্ন রাস্তার ধারে ও খালের পাড়ে তালগাছ লাগানোর জন্য সবাইকে উৎসাহীত করছি। এ ছাড়া তাড়াশ এলাকার মানুষ সাম্প্রতিক সময়ে তালের ভালো দাম পাওয়ায় আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।  
এ প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, তালের শাঁসের অনেক উপকারীতা রয়েছে। তবে তা অবশ্যই পরিস্কার হতে হবে। আর তাল শাঁসে থাকা প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ শরীরের জন্য উপকারীও বটে।
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post